পর্তুগাল ডি৮ ভিসা ও ডি৭ ভিসা:প্যাসিভ ইনকামে ইউরোপে বসবাসের পথ

পর্তুগাল ডি৮ ভিসা ও ডি৭ ভিসার বদৌলতে এখন জমি বা সম্পত্তি না কিনে কেবল নির্দিষ্ট রিমোট বা প্যাসিভ ইনকাম দেখিয়েই ইউরোপের অন্যতম আকর্ষণীয় দেশ পর্তুগালে স্থায়ীভাবে বসবাসের আইনি সুযোগ পাচ্ছেন বিদেশি নাগরিকরা।
ইউরোপের অন্যান্য দেশে রেসিডেন্সি পাওয়ার জন্য ভারী আর্থিক বিনিয়োগ বা সম্পত্তি কেনার কঠোর নিয়ম থাকলেও পর্তুগিজ সরকার এই দুটি ভিসায় সেই কঠিন বাধ্যবাধকতা পুরোপুরি শিথিল করেছে। মূলত ডিজিটাল নোম্যাড বা ফ্রিল্যান্সার এবং নির্দিষ্ট স্থানান্তরণযোগ্য আয়ের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের আকর্ষণের লক্ষ্যেই ভিসা সুবিধা দুটি ডিজাইন করা হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে বসবাসের সাধারণ নিয়মগুলো বেশ জটিল হলেও পর্তুগাল উদ্ভাবনী ভিসানীতির মাধ্যমে অনেক প্রবাসীর পথ সহজ করে দিয়েছে। অতীতে যেখানে বহুল আলোচিত ‘গোল্ডেন ভিসা’ পেতে হাজার হাজার ইউরো খরচ করে জমি বা বাড়ি কিনতে হতো, বর্তমানে সেই নিয়মে আনা পরিবর্তনগুলো সাধারণ ফ্রিল্যান্সার ও অবসরপ্রাপ্তদের নতুন পথ দেখাচ্ছে।
এই অর্থনৈতিক কাঠামোর মূল সৌন্দর্য হলো আবাসন ক্রয়ের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আবেদনকারীকে পর্তুগালে কেবল দীর্ঘমেয়াদী একটি বাড়ি বা ফ্ল্যাট ভাড়ার বৈধ চুক্তিপত্র দেখাতে হয়। একই সাথে তিনি যেকোনো নন-ইইউ দেশ থেকে নিয়মিত বৈধভাবে প্রয়োজনীয় পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করছেন সেটি ব্যাংকিং নথিপত্রের মাধ্যমে প্রমাণ করতে পারলেই কাঙ্ক্ষিত ভিসার দুয়ার উন্মোচিত হয়।
কর্মক্ষেত্র যখন বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে পড়েছে, তখন অনলাইনে বা দূর থেকে কাজ করা পেশাজীবীদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে তৈরি করা হয়েছে পর্তুগাল ডি৮ ভিসা, যা বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল নোম্যাড ভিসা নামেও সুপরিচিত। আপনি যদি অন্য দেশের কোনো প্রতিষ্ঠানের সাথে রিমোট চাকুরিজীবী হিসেবে যুক্ত থাকেন কিংবা আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টদের ফ্রিল্যান্স সেবা দিয়ে মাসিক আয় নিশ্চিত করেন, তবে আপনি এই ভিসার জন্য যোগ্য।
ডি৮ ভিসার আবেদনের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো পর্তুগালের জাতীয় ন্যূনতম বেহত্যার অন্তত চারগুণ মাসিক আয় প্রমাণ করা। আবেদনকারীর ব্যাংকে বিগত ছয় মাসের আয়ের বিবরণী এবং বৈধ নিয়োগপত্র বা সার্ভিস কনট্রাক্ট জমা দিতে হয়। এই ভিসার আওতায় প্রথম দফায় দুই বছরের জন্য রেসিডেন্সি পারমিট বা বসবাসের কার্ড পাওয়া যায়, যা পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় শর্ত সাপেক্ষে নবায়ন করা সম্ভব।
যারা সরাসরি চাকরি বা দৈনিক শারীরিক শ্রম না দিয়ে নির্দিষ্ট কোনো উৎস থেকে আয় করেন, তাদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে ডি৭ ভিসা। সাধারণত প্রবীণ নাগরিক, অবসরপ্রাপ্ত পেনশনার, নিজস্ব সম্পত্তি ভাড়া দিয়ে আয় করা ব্যক্তি কিংবা শেয়ারবাজার ও বন্ড থেকে নিয়মিত ডিভিডেন্ড পাওয়া প্রবাসীরা এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন।
এই ভিসার বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি পেতে ডি৮ ভিসার চেয়ে কম আয়ের শর্ত পূরণ করতে হয়। পর্তুগালের নির্ধারিত মাসিক ন্যূনতম বেতনের সমান নিষ্ক্রিয় ইনকাম ব্যাংকে নিয়মিত জমা হচ্ছে দেখালেই ভিসা পাওয়ার প্রাথমিক যোগ্যতা অর্জিত হয়। অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পাশাপাশি স্বাধীন বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি ইউরোপে স্থায়ীভাবে বাস করার অত্যন্ত সাশ্রয়ী ও কার্যকর পথ।
পর্তুগালের এই বিশেষ ভিসাধারীদের সবচেয়ে বড় স্বস্তি হলো অর্জিত মূলধন কোনো একটি নির্দিষ্ট সম্পত্তি বা জমিতে আটকে রাখতে হয় না। রিয়েল এস্টেট বাজারে বিশাল বিনিয়োগের ঝুঁকি ছাড়াই বিদেশি নাগরিকরা নিজেদের স্বাধীন ব্যবসায়িক আয় বা সঞ্চয় ব্যবহার করে ইউরোপে সাবলীল জীবনযাপন করতে পারেন।
পর্তুগালে প্রবেশ করে রেসিডেন্সি কার্ড পাওয়ার পর প্রবাসীরা ইউরোপের ২৬টি শেনজেন ভুক্ত দেশে ভিসা ছাড়াই যাতায়াত করার সুযোগ পান। পাশাপাশি পরিবার নিয়ে বসবাসের ক্ষেত্রে সন্তানদের জন্য উন্নত শিক্ষা, বিনামূল্যে সরকারি চিকিৎসা সেবা এবং ইউরোপের অপরাপর দেশের তুলনায় সাশ্রয়ী জীবনযাত্রার ব্যয় পর্তুগালকে বসবাসের জন্য শীর্ষে রেখেছে।
আপনার পর্তুগাল ডি৮ ভিসা কিংবা ডি৭ ভিসা অনুমোদিত হওয়ার পর কেবল এককভাবে নয়, বরং পুরো পরিবারকে সাথে নিয়ে পর্তুগালে বসবাসের আবেদন করা যায়। ফ্যামিলি রিইউনিফিকেশন নীতির আওতায় বৈধ স্ত্রী, ১৮ বছরের কম বয়সী সন্তান এবং আংশিক বা পূর্ণ নির্ভর শীল বয়োবৃদ্ধ মা-বাবাকে নিজ আবেদনের অধীনে সহজেই রেসিডেন্সি পারমিটের আওতায় আনা সম্ভব।











