নভেম্বর ৯, ২০২৬
#ইউরোপ #দুর্ঘটনা

ভূমধ্যসাগরে সলিল সমাধি ১৩ বাংলাদেশির; শোকাতুর স্বজনদের পাশে প্রধানমন্ত্রী

ইউরোপের উন্নত জীবনের স্বপ্ন বিভোর হয়ে উত্তাল ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে আরও ১৩ জন বাংলাদেশির সলিল সমাধি হয়েছে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে দেশের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোতে। এই দুঃসময়ে শোকসন্তপ্ত স্বজনদের পাশে দাঁড়াতে এবং সহমর্মিতা জানাতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে তাদের বাড়িতে গিয়েছেন তিন সংসদ সদস্য।

লিবিয়া উপকূল হয়ে ইতালির উদ্দেশ্যে যাত্রা করা একটি জরাজীর্ণ ট্রলার ভূমধ্যসাগরের মাঝপথে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ডুবে গেলে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও স্থানীয় কোস্টগার্ডের বরাত দিয়ে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে ১৩ জনই বাংলাদেশি নাগরিক। দালালের খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব হারিয়ে অবৈধ পথে ইউরোপ যাত্রার এই মরণপণ লড়াই আবারও এক করুণ ট্র্যাজেডিতে রূপ নিল।

নিহতদের অধিকাংশেরই বাড়ি দেশের সিলেট, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর অঞ্চলে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর যখন পরিবারের কাছে সুসংবাদের বদলে প্রিয়জনের মৃত্যুর খবর পৌঁছাল, তখন ওইসব জনপদে কান্নার রোল পড়ে যায়। তপ্ত বালু আর নোনা জলের আড়ালে হারিয়ে যাওয়া এই স্বপ্নগুলোর দায়ভার নিতে এখন আর কেউ নেই।

আরও পড়ুনঃ সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সতর্কবার্তা, জেনে নিন প্রয়োজনে যোগাযোগের নম্বর!

ঘটনার ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তার নির্দেশে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বার্তা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজ নিতে যান সরকারের মনোনীত তিন সংসদ সদস্য। তারা প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্যরা বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নিজে এই ঘটনায় ব্যথিত। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যেন প্রতিটি পরিবারের খোঁজ নেওয়া হয় এবং তাদের প্রয়োজনীয় আইনি ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা হয়। দালালের খপ্পরে পড়ে আমাদের মেধাবী তরুণরা যেন এভাবে অকালে প্রাণ না হারায়, সে বিষয়ে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।”

অভিবাসন বিশ্লেষকদের মতে, ভূমধ্যসাগর এখন বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক ‘গণকবরে’ পরিণত হয়েছে। বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও একশ্রেণির অসাধু দালাল চক্র তরুণদের প্রলুব্ধ করে এই নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। লিবিয়ার জঙ্গল থেকে শুরু করে ভূমধ্যসাগরের নীল জলরাশি—প্রতিটি ধাপে রয়েছে ভয়াবহ নির্যাতন ও প্রাণহানির ঝুঁকি।

সরকার বারবার সতর্ক করলেও অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার এই প্রবণতা কমছে না। সংসদ সদস্যরা তাদের পরিদর্শনে গ্রামবাসীর উদ্দেশ্যে আহ্বান জানান, যেন কেউ দালালের কথায় প্রলুব্ধ হয়ে পরিবারের স্বপ্নকে বিপন্ন না করেন। জনশক্তি রপ্তানি ব্যুরোর (বিএমইটি) মাধ্যমে নিবন্ধিত হয়ে বৈধ উপায়ে বিদেশে যাওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

১৩টি তাজা প্রাণের অকাল বিয়োগ আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রকাঠামোর জন্য এক বিশাল সতর্কবার্তা। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দেওয়া এই সহমর্মিতা পরিবারগুলোকে সাময়িকভাবে সান্ত্বনা দিলেও, তাদের শূন্যস্থান পূরণ হবার নয়। কেবল শোক প্রকাশ বা সান্ত্বনা নয়, বরং মানবপাচারকারী সিন্ডিকেটগুলোকে সমূলে উৎপাটন করাই হোক এই মুহূর্তের প্রধান অঙ্গীকার।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *