জর্ডানের পোশাক খাতে নামমাত্র খরচে বোয়েসেলের মাধ্যমে চাকরির বিশাল সুযোগ

সরকারি ব্যবস্থাপনা ও নিরাপদ অভিবাসন প্রক্রিয়ার আওতায় জর্ডানের পোশাক খাতে কর্মী নিয়োগের নতুন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)। তৈরি পোশাক কারখানায় দক্ষ নারী ও পুরুষ কর্মীদের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে লাভজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে সম্প্রতি এই বিশেষ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। সরকার নির্ধারিত নামমাত্র ফি এবং শতভাগ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত প্রার্থীরা আইনি সুরক্ষায় জর্ডান যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ জর্ডানের কোয়ালিফাইড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন বা কিউআইজেড (QIZ)-এর আওতাধীন পোশাক কারখানাগুলোতে বিশ্বমানের কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধায় পোশাক রফতানি করায় দেশটির কারখানাগুলোতে সারাবছরই কাজের ব্যাপক চাহিদা থাকে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশি দক্ষ শ্রমিকদের সততা ও কারিগরি দক্ষতার ওপর আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো বিশেষ আস্থা রাখছে।
বোয়েসেলের মাধ্যমে প্রকাশিত এই বিজ্ঞপ্তিতে মূলত তৈরি পোশাক তৈরির প্রধান কারিগর হিসেবে সুইং মেশিন অপারেটর পদে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। অভিজ্ঞ কর্মীদের পাশাপাশি আধুনিক শিল্প কারখানার মেশিনারিজ চালনায় পারদর্শী তরুণ-তরুণীদের জন্য এটি আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের চমৎকার প্ল্যাটফর্ম। কর্মস্থলে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করায় পেশাগত নিরাপত্তা ও শ্রম অধিকার পুরোপুরি সংরক্ষিত থাকে।
নির্বাচিত কর্মীদের জন্য আন্তর্জাতিক শ্রম মান অনুযায়ী নিয়মিত মাসিক বেতনের পাশাপাশি ওভারটাইম কাজের বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে। নিয়মিত কর্মঘণ্টা শেষে অতিরিক্ত কাজের জন্য জর্ডানের শ্রম আইন অনুযায়ী বাড়তি পারিশ্রমিক প্রদান করা হয়। এর বাইরে কর্মীদের কর্মক্ষমতা ও উৎসবভিত্তিক নানা ধরনের বোনাস সুবিধাও উন্মুক্ত থাকে।
বসবাস ও জীবনযাত্রার খরচ শূন্যে নামিয়ে আনতে নিয়োগকারী কারখানা কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মানসম্মত বাসস্থান এবং তিন বেলার পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করে। একই সাথে আবাসন থেকে কর্মস্থলে নিরাপদে পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজনীয় পরিবহন সেবাও প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয়। জরুরি স্বাস্থ্য সমস্যা মোকাবিলায় কর্মীরা নিয়োগদাতার খরচে প্রাথমিক ও আধুনিক চিকিৎসাসেবা ভোগ করেন।
কোনো প্রকার লিখিত পরীক্ষা নয়, বরং কর্মীর বাস্তব কর্মদক্ষতাই এখানে মূল বিবেচ্য বিষয়। রাজধানী ঢাকার নির্ধারিত টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার বা সরকারি কারিগরি প্রতিষ্ঠানে সরাসরি মেশিন পরিচালনার ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। সুইং মেশিনের গতি, সেলাইয়ের সূক্ষ্মতা, ফিনিশিং ও কাজের গতি যাচাই করে বিদেশি কোম্পানির নিয়োগকারী প্রতিনিধিরা চূড়ান্ত প্রার্থী নির্বাচন করেন।
আবেদনকারীদের অবশ্যই মূল পাসপোর্ট, হালনাগাদ জাতীয় পরিচয়পত্র এবং পোশাক কারখানায় পূর্বে কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রমাণপত্র সঙ্গে রাখতে হয়। ব্যবহারিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের নাম তাৎক্ষণিকভাবে তালিকাভুক্ত করা হয় এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারে পাঠানো হয়।











