নভেম্বর ৯, ২০২৬
#মধ্যপ্রাচ্য #সৌদি আরব

এক সপ্তাহে ১৪ হাজার প্রবাসীকে আটক করেছে সৌদি আরব

দেশজুড়ে সমন্বিত সাঁড়াশি অভিযানের অংশ হিসেবে সৌদি আরবে প্রবাসী গ্রেপ্তার নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গত ১৫ থেকে ২১ অক্টোবরের মধ্যে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের দায়ে মোট ১৩ হাজার ৯০৫ জন অভিবাসীকে আটক করেছে যৌথ নিরাপত্তা বাহিনী। শনিবার সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, দেশটিতে অবৈধভাবে বসবাস ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বন্ধে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে এই নিয়মিত অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহের এই অভিযানে সবচেয়ে বেশি আটক হয়েছেন আবাসন আইন বা ইকামা সংক্রান্ত নিয়ম অমান্যকারীরা। এই ক্যাটাগরিতে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছেন ৬ হাজার ৫৫৪ জন অভিবাসী। কর্মক্ষেত্রের বাইরে কাজ করা, স্পনসর বা কফিলের অনুমতি ছাড়া থাকা কিংবা ইকামার মেয়াদ নবায়ন না করাই এদের আটকের প্রধান কারণ।

একই সময়ে সৌদি আরবের প্রচলিত শ্রম আইন অমান্য করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩ হাজার ৪৮৬ জনকে। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে চুক্তি ছাড়া কাজ করা এবং নির্ধারিত পেশার বাইরে যুক্ত থাকার ঘটনা তদন্তে এই অনিয়ম ধরা পড়ে। এছাড়া সীমান্ত নিরাপত্তা বিধি অমান্য করার দায়ে আটক করা হয়েছে আরও ৩ হাজার ৮৬৫ জনকে।

সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নিরাপত্তা বাহিনী দিনরাত নজরদারি চালাচ্ছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দেশটির সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টাকালে ১ হাজার ৮৮১ জনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে সীমান্তরক্ষী দল। এই অনুপ্রবেশকারীদের বড় অংশই যুদ্ধবিধ্বস্ত ও অর্থনৈতিক সংকটে থাকা প্রতিবেশী অঞ্চলের নাগরিক।

একই সময়ে অবৈধ উপায়ে সৌদি আরব ত্যাগ করার চেষ্টাকালে ধরা পড়েছেন ২২ জন। মূলত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকা ও বিভিন্ন আইনি জটিলতায় ফেঁসে যাওয়া ব্যক্তিরা সীমান্ত পার হয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এই তৎপরতার ফলে সৌদি আরবে প্রবাসী গ্রেপ্তার অভিযানের পাশাপাশি সীমান্ত পাহারা যে কতটা কঠোর করা হয়েছে, তা আবারও স্পষ্ট হলো।

বর্তমানে দেশটিতে আটক হওয়া বিপুলসংখ্যক প্রবাসীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমানে মোট ৩৭ হাজার ৬১৮ জন অভিবাসী শাস্তিমূলক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। এদের মধ্যে ৩৫ হাজার ৪৪৯ জন পুরুষ এবং ২ হাজার ১৬৯ জন নারী রয়েছেন।

আইনি পর্যালোচনার পর ২০ হাজার ২৫২ জন প্রবাসীকে তাদের নিজ নিজ দেশের দূতাবাস ও কনস্যুলেটে পাঠানো হয়েছে ট্রাভেল পাস বা জরুরি ভ্রমণ নথি সংগ্রহের জন্য। একই সাথে ৬ হাজার ৫৫৫ জনকে দেশে ফেরার টিকিট বুকিংয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গেল এক সপ্তাহে ৭ হাজার ৯৩৪ জন অনিয়মিত প্রবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো বা ডিপোর্ট করা হয়েছে।

অবৈধ অভিবাসীদের কোনো ধরনের সহায়তা না করতে স্থানীয় নাগরিক ও বৈধ প্রবাসীদের কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সীমান্ত লঙ্ঘনকারীদের দেশে প্রবেশে সহায়তা করা, তাদের পরিবহন সুবিধা দেওয়া কিংবা বাসস্থান দিয়ে আশ্রয় দেওয়া বড় ধরনের অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

এমন অপরাধের সঙ্গে জড়িত প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে। পাশাপাশি গুনতে হতে পারে ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত ভারী জরিমানা। অপরাধে ব্যবহৃত গাড়ি ও বসতবাড়ি বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি অপরাধীদের নাম-পরিচয় গণমাধ্যমে প্রকাশ করার কঠোর বিধান রাখা হয়েছে। রিয়াদ, মক্কা, মদিনা ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে ৯১১ নম্বরে এবং অন্যান্য অঞ্চলে ৯৯৯ বা ৯৯৬ নম্বরে কল করে অবৈধ কর্মকাণ্ডের তথ্য জানাতে জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এক সপ্তাহে ১৪ হাজার প্রবাসীকে আটক করেছে সৌদি আরব

কাতারে বেতন সুরক্ষা ব্যবস্থা অমান্য করলেই ভিসা

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *