নভেম্বর ৯, ২০২৬
#বিনোদন

জমজমাট ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব

শীতের হিমেল হাওয়া আর গরম কফির সঙ্গে সিনেমার আড্ডা—সিনেমাপ্রেমীদের জন্য এর চেয়ে ভালো সময় আর হতে পারে না। রাজধানীর বুকে এখন সেই উৎসবের আমেজ। গত ১০ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে ‘২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব’ (DIFF)। ‘নান্দনিক চলচ্চিত্র, মননশীল দর্শক, আলোকিত সমাজ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদ আয়োজিত এই উৎসবটি এবার আরও বড় পরিসরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ভেন্যু ও আয়োজন এবারের উৎসবে বিশ্বের ৭৪টি দেশের প্রায় আড়াই শতাধিক চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে। উৎসবের প্রধান ভেন্যু হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তন ও সুফিয়া কামাল মিলনায়তন। এছাড়াও অলিয়ঁস ফ্রঁসেজ, শিল্পকলা একাডেমি এবং স্টার সিনেপ্লেক্সের কয়েকটি শাখায় চলছে প্রদর্শনী। সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে রাত ৯টা পর্যন্ত চলছে একের পর এক সিনেমা। শিক্ষার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে বিশেষ পাসের ব্যবস্থা, যার ফলে তরুণ প্রজন্মের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।

যেসব সিনেমা নিয়ে আগ্রহ তুঙ্গে এবারের উৎসবে ‘এশিয়ান কম্পিটিশন’ বিভাগে বেশ কিছু শক্তিশালী চলচ্চিত্র জায়গা করে নিয়েছে। বিশেষ করে ইরানি পরিচালক আসগর ফারহাদির নতুন সিনেমা এবং জাপানিজ ফিল্মমেকার কোরে-এদার একটি ছবি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ ছিল আকাশচুম্বী। টিকিট কাউন্টারে লম্বা লাইন প্রমাণ করে যে, ওটিটি প্ল্যাটফর্মের যুগেও বড় পর্দায় ভালো সিনেমা দেখার ক্ষুধা কমেনি।

বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন তরুণ নির্মাতার স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এবং ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হচ্ছে ‘বাংলাদেশ প্যানোরমা’ বিভাগে। এর মধ্যে ‘মাটির নিচে জল’ এবং ‘শহরের শেষ ট্রেন’ নামের দুটি ছবি সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। উৎসবে নারী নির্মাতাদের জন্য আলাদা একটি বিভাগ রাখা হয়েছে, যেখানে নারীদের দৃষ্টিভঙ্গিতে নির্মিত সমাজ ও রাষ্ট্রের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরা হয়েছে।

মাস্টারক্লাস ও সেমিনার শুধু সিনেমা দেখা নয়, সিনেমা নির্মাণের খুঁটিনাটি শেখার সুযোগও থাকছে উৎসবে। দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান পরিচালক ও সমালোচকরা নিচ্ছেন মাস্টারক্লাস। পশ্চিমের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র তাত্ত্বিকরা ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট সিনেমা ও তার ভবিষ্যৎ’ নিয়ে সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন। উৎসব পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামাল বলেন, “ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব এখন আর শুধু একটি উৎসব নয়, এটি একটি আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। আমরা চাই বিশ্বমানের সিনেমার সঙ্গে আমাদের দেশের দর্শকদের পরিচয় করিয়ে দিতে এবং আমাদের নির্মাতাদের আন্তর্জাতিক মানের কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করতে।”

উৎসব চলবে আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। সমাপনী দিনে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র, শ্রেষ্ঠ পরিচালক, ও শ্রেষ্ঠ অভিনেতাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে পুরস্কার। ঢাকার জ্যাম ও ব্যস্ততার মাঝে এই উৎসবটি যেন এক পশলা স্বস্তির বাতাস নিয়ে এসেছে নগরবাসীর জন্য।

জমজমাট ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব

সৌন্দর্য ধরে রাখতে প্লাস্টিক সার্জারি নয় :জয়া

জমজমাট ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব

২০০১ সালে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় গঠন করেছিলো

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *