জাপানে স্থায়ী বসবাসের নতুন নিয়ম: কড়া শর্তের মুখে পড়তে যাচ্ছেন প্রবাসীরা

জাপানে স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন দেখা অভিবাসীদের জন্য বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। জাপানে স্থায়ী বসবাসের নতুন নিয়ম অনুযায়ী এখন থেকে স্থায়ী আবাসন (পিআর) পেতে হলে আবেদনকারীর বার্ষিক আয় হতে হবে জাপানি পরিবারের গড় আয়ের চেয়ে বেশি, জাপানি ভাষায় ভালো দক্ষতা থাকতে হবে এবং থাকতে হবে অন্তত ৩০ বছরের পেনশন তহবিলে অর্থ জমার সঠিক হিসাব। আগামী অক্টোবর থেকে এসব নতুন নীতিমালাই কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার।
জাপানি ইমিগ্রেশন সার্ভিস এজেন্সি (আইএসএ) জানিয়েছে, দেশে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পেলেও বিদেশি নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি ছিল। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, যারা জাপানে স্থায়ী হতে চান, তাদের নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর পূর্ণ সামর্থ্য থাকতে হবে।
কোনো ব্যক্তি যাতে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের কল্যাণ তহবিল বা সহায়তার ওপর নির্ভরশীল না হয়ে পড়েন, তা নিশ্চিত করতেই মূলত আয় ও পেনশনের মতো ক্ষেত্রগুলোতে নতুন মাত্রা যোগ করা হচ্ছে। ফলে এতদিন সামান্য শর্ত পূরণ করে আবেদন করার যে পথ খোলা ছিল, তা একপ্রকার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
জাপানে বর্তমানে প্রায় পৌনে ১০ লাখের বেশি প্রবাসী স্থায়ী বসবাসের সুযোগ নিয়ে বসবাস করছেন। তবে সরকারের এই অকস্মাৎ কড়াকড়ির খবরে ধাক্কা খেয়েছেন অনেক পুরোনো অধিবাসী। দীর্ঘ দিন ধরে সততার সাথে কর দিয়ে আসার পর হঠাৎ এমন নতুন নিয়মের মুখোমুখি হতে হবে, তা ভাবতেই পারেননি অনেকে।
কেবল এশীয় বা স্বল্প আয়ের প্রবাসীরাই নন, এমনকি বহু পশ্চিমা দেশের অধিবাসীরাও এখন একই শঙ্কায়। বহু বছর ধরে টোকিও কিংবা অন্যান্য শহরে স্থায়ী ভিত্তি গড়ার পর সরকারের এমন নীতি তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে বড় ধাক্কা দিয়েছে।
আয়ের পাশাপাশি ভাষাগত যোগ্যতা কঠোর করাকেও বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এতদিন আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতা ও টানা থাকার সময়সীমাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হতো। তবে এবার জাপানি ভাষার মধ্যবর্তী লেভেল নিশ্চিত করা এবং একইসাথে ৩০ বছরের পেনশন হিসাবের প্রমাণ দেওয়া অনেকের পক্ষেই অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।
বিশেষ করে যারা বয়সের শেষভাগে বা প্রৌঢ়ত্বে জাপানে থিতু হয়েছেন, তাদের জন্য নতুন আয়ের হার এবং ৩০ বছরের পেনশনের অর্থ জমার সমপরিমাণ সমীকরণ মে মেলানো একেবারেই দুরুহ হয়ে পড়বে। এতে করে বহু দক্ষ কর্মীকেও ভবিষ্যতে স্থায়ী রেসিডেন্সির চিন্তা বাদ দিতে হতে পারে।











