নভেম্বর ৯, ২০২৬
#প্রত্যাবর্তন #প্রবাসীর গল্প #সংগ্রাম

প্রবাসফেরতদের পুনর্বাসন : ফেরত আসা প্রবাসীরা ব্যাংক ঋণ কীভাবে পাবেন?

কর্মসংস্থান বা নানাবিধ কারণে বিদেশে অবস্থান শেষে স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের পর নতুন করে জীবন সাজাতে ফেরত আসা প্রবাসীদের জন্য ব্যাংক ঋণ ও বিশেষ অর্থায়ন সুবিধা এক বিরাট আশার আলো তৈরি করেছে। বিদেশে দীর্ঘদিন শ্রম দিয়ে দেশে ফিরে অনেক কর্মীই সঠিক মূলধনের অভাবে নতুন কোনো ব্যবসা বা আত্মকর্মসংস্থানমূলক উদ্যোগ শুরু করতে পারেন না। এ বাস্তবতায় সহজ শর্তে সরকারি ব্যাংক ও এনজিও ফান্ডিং প্রবাসীদের পুনর্বসনে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে শূন্য থেকে কাজ শুরু করা যেকোনো কর্মীর জন্যই চ্যালেঞ্জিং। অনেক সময় জমানো সঞ্চয় ফুরিয়ে গেলে বা প্রত্যাশিত মূলধন না থাকলে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন থমকে দাঁড়ায়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান যেমন প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক এবং অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো বিশেষ আর্থিক স্কিম পরিচালনা করছে।

এই ঋণ কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্য হলো বিদেশে অর্জিত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে দেশীয় অর্থনীতিতে কাজে লাগানো। একজন প্রবাসফেরত কর্মী যদি কৃষি, গবাদি পশু পালন, তথ্যপ্রযুক্তি বা ছোটখাটো উৎপাদনশীল খাত বেছে নেন, তবে তিনি সহজেই ব্যাংক ঋণের জন্য আবেদন করতে পারেন। আবেদনের জন্য সাধারণত বিএমইটি কার্ড, পাসপোর্ট, প্রবাসী আয়ের প্রমাণপত্র এবং একটি বাস্তবসম্মত ব্যবসা পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে হয়।

সরকারি ব্যাংকের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এনজিও প্রবাসফেরত কর্মীদের পুনর্বাসনে এগিয়ে এসেছে। ব্যাংক ঋণের জামানত সংক্রান্ত জটিলতা যেখানে অনেক সময় সাধারণ মানুষের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ায়, সেখানে এনজিওগুলোর সহজ শর্তের মাইক্রো-ক্রেডিট বা ক্ষুদ্র ঋণ বড় ধরনের সহায়তা প্রদান করে। খুব দ্রুত সময়ে এবং নমনীয় শর্তে এই অর্থ ছাড় করা হয়।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) বিকাশে এনজিও ফান্ডিং এখন গ্রামে-গঞ্জে প্রবাসফেরত উদ্যোক্তা তৈরিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে যেসব কর্মী বিদেশে টেকনিক্যাল বা ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে কাজ করে অভিজ্ঞ হয়েছেন, তারা দেশে ফিরে ওয়ার্কশপ, অটোমোবাইল সার্ভিসিং বা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপনে এই আর্থিক সুবিধা কাজে লাগাচ্ছেন।

সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা থাকলেও ব্যবসা শুরু করার পূর্বে সঠিক খাত নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরি। প্রবাসে অর্জিত অভিজ্ঞতা যে খাতে বেশি, সেই সংশ্লিষ্ট খাতে বিনিয়োগ করলে সফলতার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়। সেই সাথে ব্যবসায়িক মূলধন সঠিক উপায়ে পরিচালনা এবং সময়মতো ঋণের কিস্তি পরিশোধের বিষয়টিও মাথায় রাখা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধুমাত্র অর্থায়নই যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি ফেরত আসা প্রবাসীদের জন্য কারিগরি ও ব্যবসায়িক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা উচিত। এতে করে প্রবাসীদের অর্জিত ঋণ সঠিকভাবে কাজে লাগবে এবং দেশে একটি টেকসই উদ্যোক্তা ইকোসিস্টেম গড়ে উঠবে।

প্রবাসীরা শুধু বিদেশে থাকতেই রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ করেন না, দেশে ফিরেও তারা দেশের মূল চালিকাশক্তি হতে পারেন। সঠিকভাবে মূলধন সরবরাহ করা গেলে তারা নিজেরা আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য স্থানীয় বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারেন।

অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে সরকার বর্তমানে ফেরত আসা প্রবাসীদের জন্য ব্যাংকিং ঋণ বিতরণ কার্যক্রম অনলাইন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে। এতে করে দূরদূরান্তের প্রান্তিক প্রবাসীরা কোনো ধরনের দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর হয়রানি ছাড়াই সরাসরি ব্যাংক থেকে অর্থায়ন সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।

সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্সে ইতিবাচক গতি

প্রবাসফেরতদের পুনর্বাসন : ফেরত আসা প্রবাসীরা ব্যাংক ঋণ কীভাবে পাবেন?

কম মূলধনে বিদেশে ব্যবসা শুরু করা কি

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *