বিদেশের মাটিতে আটকে পড়া প্রবাসীদের ফেরাতে সরকার বড় উদ্যোগ

বিদেশের মাটিতে নানা আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে পড়া প্রবাসী বাংলাদেশির ভাগ্যাকাশে আশার আলো দেখা দিয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রবাসীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ শুরু করেছে।
মূলত কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের মাধ্যমে এই সংকট সমাধানের পথে এগোচ্ছে মন্ত্রণালয়।
বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি রেমিট্যান্স যোদ্ধারা অনেক সময় বিদেশের মাটিতে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শিকার হন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউরোপের দেশগুলোতে অনেক কর্মী বর্তমানে আকামা বা কাজের অনুমতির মেয়াদ শেষ হওয়া, মালিকের সাথে চুক্তি ভঙ্গ বা ভুয়া এজেন্সির খপ্পরে পড়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এই সমস্যাগুলো সমাধানে এতদিন বিচ্ছিন্ন কিছু উদ্যোগ থাকলেও, এবার একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অনেক প্রবাসী বর্তমানে বিদেশের ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে বা কোম্পানি হাউজিংয়ে আটকে আছেন। তাদের অনেকেরই বৈধ কাগজপত্র না থাকায় তারা না পারছেন কাজে ফিরতে, না পারছেন দেশে ফিরতে। এমন পরিস্থিতিতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, সরকার কেবল তাদের ফিরিয়ে আনতেই নয়, বরং তাদের কর্মসংস্থানের বৈধতা ফিরিয়ে দিতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর শ্রম মন্ত্রণালয়ের সাথে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা শুরু করেছে।
বিশেষ করে কূটনৈতিক চ্যানেলের ব্যবহার বাড়িয়ে জটিলতা কমানোর কৌশল নিয়েছে ঢাকা। ব্রুনাই, কাতার, ওমান এবং মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলোতে থাকা বাংলাদেশি মিশনগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা প্রতিটি সমস্যার আলাদা ডাটাবেজ তৈরি করে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে। যেসব কর্মীর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তাদের জরিমানামুক্ত সাধারণ ক্ষমার আওতায় আনার বিষয়েও আলোচনা চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একজন প্রবাসী যখন আটকে পড়েন, তখন কেবল তিনি নিজে নন, বরং দেশে থাকা তার পুরো পরিবারটিই অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে পঙ্গু হয়ে যায়। তাই সরকারের এই তড়িৎ পদক্ষেপ কেবল মানবিক নয়, বরং দেশের অর্থনীতির সুরক্ষা কবচ হিসেবেও কাজ করবে।
উদ্যোগের মূল দিকসমূহ:
কূটনৈতিক অগ্রাধিকার: বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোতে প্রবাসী সেল গঠন করে ২৪ ঘণ্টা সেবা নিশ্চিত করা।
ভিসা ও কাজের অনুমতি: প্রশাসনিক জটিলতা দূর করতে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের সাথে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর।
আইনি সহায়তা: যেসব প্রবাসী মিথ্যা মামলায় বা আইনি মারপ্যাঁচে আটকা পড়েছেন, তাদের জন্য সরকারি খরচে আইনজীবী নিয়োগ।
বিমানের বিশেষ ব্যবস্থা: বড় পরিসরে আটকে পড়া কর্মীদের দেশে ফেরাতে বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা।
ডিজিটাল ট্র্যাকিং: প্রবাসীদের সমস্যাগুলো দ্রুত নিবন্ধনের জন্য একটি কেন্দ্রীয় অনলাইন পোর্টাল চালু করার প্রস্তুতি।
তবে এই উদ্যোগ সফল করতে হলে শুধু সরকারি প্রচেষ্টাই যথেষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জনশক্তি রপ্তানির সাথে যুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকেও জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে এজেন্সিগুলোর ভুল তথ্যের কারণে প্রবাসীরা বিদেশের মাটিতে ‘অবৈধ’ হয়ে পড়েন। তাদের অদূরদর্শিতার দায় কেন সরকার বা অসহায় শ্রমিক নেবে, সেই প্রশ্নটি এখন জোরালো হচ্ছে।











