নভেম্বর ৯, ২০২৬
#শীর্ষ-২ #শ্রমবাজার

ব্রুনাইয়ে বাংলাদেশি টেকনিশিয়ানদের কদর বাড়ছে

 দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ব্রুনাইয়ে সামুদ্রিক তেল শোধনাগার এবং আধুনিক জাহাজ নির্মাণ প্রকল্পগুলোতে আন্তর্জাতিক মানের সনদধারী বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বন্দর সেরি বেগাওয়ান থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ওয়েল্ডার, পাইপফিটার ও ভারী মেশিন অপারেটর হিসেবে ব্রুনাইয়ে বাংলাদেশি টেকনিশিয়ানরা এখন নিয়োগদাতাদের প্রথম পছন্দের তালিকায় রয়েছেন।

গত কয়েক বছর ধরে দেশটির অবকাঠামো ও জ্বালানি খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ হচ্ছে। বিশেষ করে সমুদ্রবক্ষে খনিজ তেল উত্তোলন ও পরিশোধনের কাজে বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনবলের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে আধুনিক শিপইয়ার্ড বা জাহাজ নির্মাণ শিল্পেও কাজের পরিধি বিস্তৃত হয়েছে। এসব ভারী শিল্পে কাজ করার জন্য সাধারণ শ্রমিকের বদলে কারিগরি জ্ঞানে সমৃদ্ধ কর্মীর দিকে ঝুঁকছে ব্রুনাইয়ের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। আন্তর্জাতিক সেফটি ট্রেনিংপ্রাপ্ত বাংলাদেশিরা মেধা ও পরিশ্রমের জোরে এই শূন্যস্থানটি সফলভাবে পূরণ করছেন।

কারিগরি দক্ষতা এবং পেশাদারিত্বের কারণে ব্রুনাইয়ের শিল্প প্রকল্পগুলোতে বাংলাদেশিদের নিয়োগের হার ক্রমাগত বাড়ছে। সামুদ্রিক তেল শোধনাগারের মতো স্পর্শকাতর স্থানে কাজের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাবিধি মানা বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ওয়েল্ডার ও পাইপফিটাররা আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে আগে থেকেই প্রশিক্ষণ নিয়ে যাচ্ছেন। ভারী মেশিনারি পরিচালনার ক্ষেত্রেও তাদের রয়েছে প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক সনদ। ফলে ব্রুনাইয়ের প্রকল্প পরিচালকদের বাড়তি সময় ব্যয় করে তাদের নতুন করে প্রশিক্ষণ দিতে হচ্ছে না।

বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে এখন আন্তর্জাতিক মানের কারিগরি শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে। সেখান থেকে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে কর্মীরা সহজেই ব্রুনাইয়ের মতো দেশে উচ্চ বেতনের চাকরি পাচ্ছেন। সিক্স-জি (6G) ওয়েল্ডিং বা অ্যাডভান্সড পাইপফিটিংয়ের মতো অত্যন্ত জটিল কাজগুলোতে বাংলাদেশিদের আধিপত্য এখন চোখে পড়ার মতো। কাজের প্রতি একাগ্রতা এবং দ্রুত নতুন পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাও তাদের নিয়োগদাতাদের কাছে বিশ্বস্ত করে তুলেছে। কারিগরি ত্রুটি মেরামতের পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কাজেও তারা দক্ষতার প্রমাণ রাখছেন।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের প্রধান শ্রমবাজার হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো পরিচিত হলেও, ব্রুনাইয়ের চিত্রটি বেশ ভিন্ন। সেখানে সাধারণ কায়িক শ্রমের চেয়ে দক্ষ কর্মীদের মূল্যায়ন অনেক বেশি। মধ্যপ্রাচ্যের নির্মাণখাতে কর্মরত সাধারণ শ্রমিকদের তুলনায় ব্রুনাইয়ের শিপইয়ার্ড ও তেল শোধনাগারে কর্মরতরা তুলনামূলক ভালো অঙ্কের মাসিক বেতন পাচ্ছেন। বেতনের পাশাপাশি তাদের জন্য থাকছে মানসম্মত স্বাস্থ্যবিমা ও নিরাপদ আবাসনের নিশ্চয়তা, যা প্রবাসী কর্মীদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

ব্রুনাইয়ের শ্রম আইন কর্মীদের অধিকার রক্ষায় যথেষ্ট কঠোর ও স্বচ্ছ। ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিযুক্ত কর্মীদের নিরাপত্তার জন্য নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান থেকেই আন্তর্জাতিক মানের সুরক্ষাসামগ্রী সরবরাহ করা হয়। কর্মস্থলে দুর্ঘটনা এড়াতে নিয়মিত কড়া নজরদারি থাকায় কর্মীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকে। একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশে কাজ করে তারা দেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বৃদ্ধি করছেন। কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত নতুন প্রজন্মের কর্মীদের জন্য ব্রুনাইয়ের এই শ্রমবাজার আগামী দিনে আরও বড় সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ব্রুনাইয়ে বাংলাদেশি টেকনিশিয়ানদের কদর বাড়ছে

অস্ট্রেলিয়ায় নার্সিং ও এজড কেয়ার খাতে সহজ

ব্রুনাইয়ে বাংলাদেশি টেকনিশিয়ানদের কদর বাড়ছে

দেশের উন্নয়নে প্রবাসী ও নাগরিকদের ঐক্যের ডাক

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *