নভেম্বর ৯, ২০২৬
#শ্রমবাজার

কানাডায় স্টুডেন্টদের কাজের নিয়ম: ২৪ ঘণ্টার নতুন নীতিতে সুযোগ ও আইনি কড়াকড়ি

কানাডায় পড়তে যাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অফ-ক্যাম্পাসে কর্মসংস্থানের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে দেশটির সরকার। নতুন শিক্ষাবর্ষ থেকে কানাডায় স্টুডেন্টদের কাজের নিয়ম পরিবর্তন করে অফ-ক্যাম্পাস কাজের সর্বোচ্চ সময়সীমা সপ্তাহে ২৪ ঘণ্টা নির্ধারণ করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা ২০ ঘণ্টার যে প্রচলিত সীমা ছিল, তা স্থায়ীভাবে বাড়িয়ে এই নতুন নিয়ম কার্যকর করেছে ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা (IRCC)। তবে এই সুযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি আইনলঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে ট্রুডো প্রশাসন।

কানাডার অভিবাসন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা যাতে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচ সামাল দিতে পারেন, সেজন্যই এই পরিবর্তন। আগের ২০ ঘণ্টার নিয়মটি জীবনযাত্রার বর্তমান ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। তবে করোনাকালীন সময়ের মতো পুরোপুরি আনলিমিটেড কাজের সুযোগ দেওয়া হলে শিক্ষার মান ব্যাহত হয়। তাই পড়াশোনা এবং কাজের মধ্যে একটি নিখুঁত ভারসাম্য বজায় রাখতেই কানাডায় স্টুডেন্টদের কাজের নিয়ম নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। এই নিয়মটি প্রতি সপ্তাহের সোমবার থেকে রোববার পর্যন্ত হিসাব করা হবে।

কানাডা সরকারের সাম্প্রতিক সংস্কারের মধ্যে সবচেয়ে বড় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে কো-অপ বা ইন্টার্নশিপের ক্ষেত্রে। পূর্বে যেসব কোর্সের সঙ্গে বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ যুক্ত থাকত, তাদের জন্য আলাদা কো-অপ ওয়ার্ক পারমিট নিতে হতো। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মূল স্টুডেন্ট পারমিটের অধীনেই শিক্ষার্থীরা এখন ইন্টার্নশিপের কাজ শেষ করতে পারবেন, যার জন্য বাড়তি কোনো ফি বা অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না। তবে শর্ত থাকে যে, এই ইন্টার্নশিপের সময়সীমা পুরো কোর্সের মোট ঘণ্টার ৫০ শতাংশের বেশি হতে পারবে না।

কানাডায় স্টুডেন্টদের কাজের নিয়ম সহজ করার পাশাপাশি এর নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে আইআরসিসি। অনেক শিক্ষার্থী মনে করেন ফ্রিল্যান্সিং বা উবার ইটস, ডোরড্যাশের মতো গিগ ইকোনমির কাজগুলো এই ২৪ ঘণ্টার বাইরে। এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল; অন-ক্যাম্পাস কাজ বাদে যেকোনো ধরনের অর্থনৈতিক উপার্জনই এই ২৪ ঘণ্টার সীমার মধ্যে পড়বে। কানাডার রেভিনিউ এজেন্সি (CRA) সরাসরি শিক্ষার্থীদের সোশ্যাল ইন্স্যুরেন্স নাম্বারের (SIN) মাধ্যমে কাজের সময় ট্র্যাক করে। কোনো শিক্ষার্থী যদি সপ্তাহে ২৪ ঘণ্টার বেশি কাজ করেন, তবে তার পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিট (PGWP) বাতিল হতে পারে, এমনকি তাকে কানাডা থেকে চুরান্তভাবে বহিষ্কারও করা হতে পারে।

কানাডায় অবস্থানরত বা নতুন গমনেচ্ছু শিক্ষার্থীদের অবশ্যই তাদের কাজের সময় বা আওয়ার সতর্কতার সাথে হিসাব করতে হবে। একাধিক প্রতিষ্ঠানে পার্ট-টাইম কাজ করলেও সব মিলিয়ে যেন তা ২৪ ঘণ্টা পার না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। তবে সামার ভ্যাকেশন, উইন্টার ব্রেক বা রিডিং উইকের মতো অফিশিয়াল ছুটির দিনগুলোতে কোনো বাধা ছাড়াই ফুল-টাইম কাজ করা যাবে। নতুন এই নিয়মগুলো ভালোভাবে বুঝে চললে আইনি জটিলতা এড়িয়ে স্বপ্নের দেশ কানাডায় পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার দুটোই সফলভাবে বজায় রাখা সম্ভব।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *