ফিনল্যান্ডে উচ্চশিক্ষা: পড়াশোনা শেষে দুই বছরের কাজের সুযোগ ও স্কলারশিপের বিস্তারিত

ফিনল্যান্ডে উচ্চশিক্ষা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ইউরোপের অন্যতম সেরা ও আকর্ষণীয় সুযোগ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ইউরোপের অন্যতম উন্নত ও নিরাপদ এই দেশটি বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষার পাশাপাশি পড়ালেখা শেষে স্থায়ীভাবে কাজ খোঁজার দুর্দান্ত সুবিধা দিচ্ছে। টিউশন ফি থাকলেও ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত স্কলারশিপ সুবিধা ও পড়ালেখা শেষে টানা দুই বছরের রেসিডেন্স পারমিট প্রাপ্তি উত্তর ইউরোপের এই দেশটিকে বিশ্বজুড়ে নতুন শিক্ষাগন্তব্য করে তুলেছে।
উত্তর ইউরোপের স্ক্যান্ডিনেভিয়ান অঞ্চলের শান্ত ও সমৃদ্ধ দেশ ফিনল্যান্ড শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকতায় বিশ্বে এক অনন্য স্থান দখল করে আছে। দেশটির প্রযুক্তিগত ও সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ব্যাচেলরস এবং মাস্টার্স পর্যায়ে শত শত ইংরেজি মাধ্যম প্রোগ্রাম চালু রয়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট টিউশন ফি থাকলেও সিংহভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ই মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ প্রদান করে।
ভর্তির আবেদনকালেই শিক্ষার্থীরা স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারেন, যেখানে ‘আর্লি বার্ড’ ছাড়সহ প্রায় ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত টিউশন ফি মওকুফ পাওয়া সম্ভব। এমনকি জাতীয় ‘ফিনল্যান্ড স্কলারশিপ’ বিজয়ী শিক্ষার্থীরা ১০০% টিউশন ফি মওকুফের পাশাপাশি এককালীন ৫ হাজার ইউরো পর্যন্ত থাকার প্রাথমিক সহায়তা পেয়ে থাকেন। এর ফলে তুলনামূলক সাশ্রয়ী খরচে ইউরোপের মানসম্মত ডিগ্রি অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে।
বিশ্বের অনেক দেশেই ডিগ্রি অর্জনের পর স্বদেশে ফিরে আসার বাধ্যবাধকতা থাকলেও ফিনল্যান্ডের নীতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ফিনল্যান্ডে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করার পর শিক্ষার্থীরা স্নাতকোত্তর কাজের অনুমতি বা ‘জব-সিকার রেসিডেন্স পারমিট’ হিসেবে টানা দুই বছর থাকার সুযোগ পান। এই সময়সীমার মধ্যে যেকোনো ফুল-টাইম চাকরি, ফ্রিল্যান্সিং বা নিজস্ব স্টার্টআপ ব্যবসা শুরু করার পূর্ণ স্বাধীনতা থাকে।
যদি এই দুই বছরের মধ্যে কোনো শিক্ষার্থী নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী উপযুক্ত চাকরি নিশ্চিত করতে পারেন, তবে তিনি সহজেই রেগুলার ওয়ার্ক পারমিটে রূপান্তর করতে পারেন। কাজের ভিসা টানা চার থেকে পাঁচ বছর বজায় থাকলে ফিনল্যান্ডে স্থায়ী বসবাসের (পিআর) পথও সুগম হয়। এছাড়া গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করার পর পাঁচ বছরের মধ্যে যেকোনো সময়ে এই পারমিটের জন্য আবেদন করা যায়, যা ইউরোপের অন্য অনেক দেশের তুলনায় বেশ নমনীয় সুবিধা।
পড়াশোনা চলাকালীন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা তাদের দৈনন্দিন ও আবাসন খরচ চালানোর জন্য পার্ট-টাইম কাজ করতে পারেন। ফিনল্যান্ডে একজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সপ্তাহে গড়ে সর্বোচ্চ ৩০ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করার আইনি অনুমোদন পান। রেস্তোরাঁ, আইটি খাত, ডেলিভারি সেবা ও বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা প্রকল্পে শিক্ষার্থীরা কাজের সুযোগ পেয়ে থাকেন।
জীবনযাত্রার খরচের দিক থেকেও ফিনল্যান্ড বেশ ভারসাম্যপূর্ণ। হেলসিঙ্কির বাইরে সাধারণ শহরগুলোতে প্রতি মাসে থাকা-খাওয়ার জন্য আনুমানিক ৭০০ থেকে ১,০০০ ইউরো প্রয়োজন হয়। দেশটির উন্নত গণপরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের একটি উদ্বেগমুক্ত জীবনের নিশ্চয়তা দেয়।
ফিনল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির জন্য সাধারণত ভালো অ্যাকাডেমিক রেকর্ড এবং ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে আইইএলটিএস (IELTS) বা সমমানের ভাষা পরীক্ষার স্কোর প্রয়োজন হয়। প্রতি বছর জানুয়ারি মাসে ফিনল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ভর্তি পোর্টাল ‘Studyinfo.fi’-এর মাধ্যমে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ছয়টি প্রোগ্রামে আবেদন জমা দেওয়া যায়।
আবেদন মঞ্জুর হওয়ার পর অনলাইনে সরাসরি স্টুডেন্ট রেসিডেন্স পারমিটের জন্য ফাইল জমা দেওয়া যায়। শিক্ষার্থী পারমিটের জন্য ব্যাংকে নির্দিষ্ট পরিমাণ আর্থিক স্বচ্ছলতার প্রমাণ বা ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখাতে হয়। সঠিক সময়ে আবেদন এবং নিয়মমাফিকভাবে সব কাগজপত্র জমা দিলে খুব দ্রুত ভিসা বা রেসিডেন্স পারমিট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।











