নভেম্বর ৯, ২০২৬
#ইউরোপ #স্টুডেন্ট ভিসা

বিনা আইইএলটিএসে উচ্চশিক্ষা: কম পরিচিত দেশগুলোতে ইংরেজি মাধ্যমে ভর্তির সহজ উপায়

বিনা আইইএলটিএসে উচ্চশিক্ষা অর্জনের স্বপ্ন এখন আরও সহজ ও বাস্তবসম্মত হয়ে উঠেছে ইউরোপ এবং এশিয়ার বেশ কিছু উদীয়মান দেশের সুবাদে। ঐতিহ্যবাহী ও বহুল পরিচিত দেশগুলোর বাইরে তুলনামূলক কম আলোচিত কিন্তু শিক্ষা মানে উন্নত বহু দেশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প উপায়ে ভর্তির দুয়ার খুলে দিচ্ছে। ভাষা পরীক্ষার কঠিন বাধা এড়িয়ে কেবল ইংরেজি মাধ্যমের পূর্ববর্তী পড়াশোনার সনদ প্রদর্শন করেই এসব দেশের নামীদামি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া সম্ভব।

বিদেশে পড়াশোনার কথা শুনলেই অধিকাংশ শিক্ষার্থীর মাথায় আসে যুক্তরাজ্য, কানাডা কিংবা অস্ট্রেলিয়ার নাম, যেখানে আইইএলটিএস স্কোরের কঠোর শর্ত থাকে। কিন্তু পূর্ব ইউরোপের দেশ পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, লিথুয়েনিয়া এবং রোমানিয়া শিক্ষার্থীদের বিকল্প উপায়ে ইংরেজি মাধ্যম কোর্সে ভর্তির সুযোগ দিচ্ছে। এসব দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক শিক্ষার মানে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থান বজায় রেখেছে।

ইউরোপ ছাড়াও এশিয়ার মধ্যে মালয়েশিয়া, সাইপ্রাস এবং তুরস্ক শিক্ষার্থীদের মাঝে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এসব দেশের সিংহভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইংরেজি মাধ্যমে ব্যাচেলরস ও মাস্টার্স প্রোগ্রাম পরিচালনা করে। আইইএলটিএস পরীক্ষা না দিয়েও কেবল পূর্ববর্তী ডিগ্রি ইংলিশ মিডিয়ামে সম্পন্ন করার প্রমাণপত্র বা ‘মিডিয়াম অব ইন্সট্রাকশন’ (MOI) সনদ জমা দিলেই ভর্তির প্রাথমিক ধাপ পেরিয়ে যাওয়া যায়।

যেসব শিক্ষার্থী বাংলাদেশে ব্যাচেলরস বা এ লেভেল/এইচএসসি পর্যায় ইংরেজি মাধ্যমে সম্পন্ন করেছেন, তারা খুব সহজেই তাদের কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমওআই (Medium of Instruction) সনদ সংগ্রহ করতে পারেন। এই সনদে স্পষ্টভাবে লেখা থাকে যে শিক্ষার্থীর পূর্ববর্তী পড়াশোনা সম্পূর্ণ ইংরেজি ভাষায় পরিচালিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অ্যাডমিশন বোর্ড এই সনদকে ভাষা দক্ষতার পর্যাপ্ত প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করে।

তবে কেবল এমওআই সনদই শেষ কথা নয়; বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে জিপিএ এবং একাডেমিক ফলাফলের ওপর জোর দেওয়া হয়। একাডেমিক রেজাল্ট ভালো থাকলে আইইএলটিএস ওয়েভার পাওয়ার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়। আবেদনের সময় সঠিক নথিপত্র এবং একটি শক্ত স্টেটমেন্ট অব পারপাস (SOP) প্রস্তুত করা জরুরি।

আইইএলটিএস না থাকলেও কিছু কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবেদনকারীর ইংরেজি বলার এবং বোঝার দক্ষতা যাচাই করার জন্য নিজস্ব অনলাইন ইন্টারভিউ গ্রহণ করে। জুম বা গুগল মিটের মাধ্যমে সাধারণ ১০-১৫ মিনিটের একটি ছোট কথোপকথনেই ভিসা ও ভর্তির প্রাথমিক যোগ্যতা যাচাই হয়ে যায়। এই ইন্টারভিউতে মূলত শিক্ষার্থীর একাডেমিক পটভূমি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়।

এছাড়া কিছু বিশ্ববিদ্যালয় আইইএলটিএসের পরিবর্তে বেশ সাশ্রয়ী মূল্যে নিজস্ব অনলাইন ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যাসেসমেন্ট টেস্ট পরিচালনা করে। এই পরীক্ষাগুলো আইইএলটিএসের চেয়ে অনেক সহজ এবং দ্রুত ফলাফল প্রদান করে। ফলে শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও অর্থ খরচ ছাড়াই ভর্তির নিশ্চিত সুযোগ পান।

কম পরিচিত বা উদীয়মান এই দেশগুলোতে পড়াশোনার অন্যতম বড় আকর্ষণ হলো সাশ্রয়ী টিউশন ফি। পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় এসব দেশে বার্ষিক শিক্ষা ব্যয় এবং থাকা-খাওয়ার খরচ অনেক কম, যা মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য এক বড় স্বস্তি। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় স্কলারশিপের ব্যবস্থাও থাকে।

পাশাপাশি পড়াশোনার পাশাপাশি পার্টটাইম কাজের সুযোগ থাকায় শিক্ষার্থীরা নিজেদের দৈনন্দিন খরচ অনায়াসে বহন করতে পারেন। ডিগ্রি সম্পন্ন করার পর ওই সমস্ত দেশে পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক পারমিটের সুযোগও পাওয়া যায়। এতে করে পরবর্তীতে ইউরোপের শেনজেন অঞ্চলে ক্যারিয়ার গড়ার একটি স্থায়ী ভিত্তি তৈরি হয়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *