প্রবাসী স্বাস্থ্যবিমার আওতা বাড়াল ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড

বৈদেশিক কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার আগে কর্মীদের জন্য নির্ধারিত বাধ্যতামূলক জীবন ও প্রবাসী স্বাস্থ্যবিমার পরিধি সম্প্রসারণ করেছে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড। নতুন এই উদ্যোগের ফলে এখন থেকে বিদেশে অবস্থানকালে কোনো কর্মী গুরুতর দুর্ঘটনা, অঙ্গহানি বা জরুরি চিকিৎসার সম্মুখীন হলে ডিজিটাল ব্যবস্থায় দ্রুততম সময়ে ক্ষতিপূরণের অর্থ পেয়ে যাবেন। প্রবাসে কর্মরত লাখো বাংলাদেশির চিকিৎসা ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের এই পদক্ষেপকে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কর্মীদের বিদেশে যাওয়ার আগে বিমা করা বাধ্যতামূলক হলেও প্রবাসে বিপদে পড়লে সেই বিমার সুবিধা পাওয়া বেশ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার ছিল। বর্তমান সংশোধিত নীতিমালায় পুরোনো প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করা হয়েছে। কোনো কর্মী বিদেশে কর্মস্থলে বা বাসস্থানে দুর্ঘটনার শিকার হলে, অঙ্গহানি ঘটলে কিংবা হঠাৎ বড় কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন পড়লে বিমাকৃত অর্থ সরাসরি তার বা মনোনীত ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের আগের মতো দীর্ঘসূত্রিতা বা দাপ্তরিক জটিলতা পোহাতে হবে না।
মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ বা এশিয়ার বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা প্রায়শই নানা ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করেন। নির্মাণ খাত, কারখানা বা পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত অবস্থায় দুর্ঘটনার হার তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা ঘটলে জরুরি চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিক বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হয়, যা অনেক সময় সাধারণ একজন কর্মীর পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব হয় না। উন্নত এই বিমা ব্যবস্থা ঠিক এমন সংকটময় মুহূর্তগুলোতে প্রবাসীদের পাশে দাঁড়াবে। বিমার অর্থ দ্রুত হাতে পেলে কর্মীরা যেমন উন্নত চিকিৎসার সুযোগ পাবেন, তেমনি দেশে থাকা তাদের পরিবারের সদস্যদেরও দুশ্চিন্তা কমবে।
সরকারের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড দীর্ঘদিন ধরেই প্রবাসীদের কল্যাণে বিভিন্ন আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে। বাধ্যতামূলক বিমা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ সেই ধারাবাহিকতারই একটি অংশ। বিদেশে যাওয়ার আগে নির্দিষ্ট প্রিমিয়ামের বিনিময়ে এই বিমা পলিসি কর্মীদের একটি বড় ধরনের আর্থিক নিরাপত্তার বলয় তৈরি করে দেয়।
বিমা খাতের সবচেয়ে বড় সমালোচনা ছিল দাবি নিষ্পত্তির ধীরগতি। পরিবর্তিত নিয়মে ডিজিটাল ব্যবস্থাকে প্রাধান্য দেওয়ায় প্রবাসীদের আর মাসের পর মাস ক্ষতিপূরণের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে জমা দেওয়ার পর দ্রুত যাচাই-বাছাই করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
প্রবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘদিন ধরেই একটি কার্যকর ও দ্রুততম স্বাস্থ্যবিমা কাঠামোর দাবি জানিয়ে আসছিল। বিদেশে থাকা অবস্থায় কোনো কর্মীর মৃত্যু হলে লাশ দেশে আনা এবং আর্থিক অনুদান দেওয়ার ব্যবস্থা আগে থেকেই কার্যকর ছিল। তবে বেঁচে থাকা অবস্থায় দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্ব বরণ করলে বা ব্যয়বহুল চিকিৎসার প্রয়োজন হলে কর্মীদের চরম অনিশ্চয়তায় পড়তে হতো।











