নিরাপত্তাবেষ্টনী লঙ্ঘন নাকি আনসারের দুর্ব্যবহার? বিমানবন্দরে অপ্রীতিকর ঘটনা নিয়ে বিতর্ক

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একের পর এক বিমানবন্দরে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটায় যাত্রী ও স্বজনদের নিরাপত্তা এবং সেবা ব্যবস্থাপনা নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে বিমানবন্দরের ক্যানোপি-২ এলাকায় প্রবাসী যাত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে আসা স্বজনদের সঙ্গে দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মীদের বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ঘটনাটির ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে চরম সমালোচনা শুরু হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ২১ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে এক প্রবাসী যাত্রীকে নিতে তাঁর স্বজনেরা টার্মিনালের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। একপর্যায়ে আগমনী গেটের নিরাপত্তা বলয় অতিক্রম করে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন এক স্বজন। ক্যানোপি এলাকায় দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা তাঁকে প্রবেশে বাধা দিলে শুরু হয় উত্তপ্ত বাকযুদ্ধ।
মুহূর্তের মধ্যেই সেই তর্কাতর্কি ঠেলে হাতাহাতি ও হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছায়। বিমানবন্দরের ক্যানোপি-২ অংশটি তখন থমথমে হয়ে পড়ে এবং উপস্থিত অন্যান্য যাত্রী ও দর্শনার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আনসার বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিমানবন্দরে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার স্বার্থেই আনসার সদস্যরা কড়া অবস্থানে ছিলেন। এক ব্যক্তি নিষেধ অমান্য করে স্পর্শকাতর এলাকায় ঢোকার চেষ্টা করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে নিরাপত্তাকর্মীদের ওপর আক্রমণের চেষ্টা করা হলে তাঁরা আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেন বলে কর্তৃপক্ষের দাবি।
তবে প্রত্যক্ষদর্শী ও সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ ভিন্ন। তাঁদের মতে, অনেক সময়ই বিমানবন্দর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা সাধারণ দর্শনার্থী ও প্রবাসীদের সঙ্গে কঠোর ও রূঢ় আচরণ করেন। সঠিক দিকনির্দেশনা ও সংযমী আচরণের অভাবে ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি বড় সংঘাতের রূপ নেয়।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসীদের স্বজনদের সাথে বা যাত্রীদের নিজস্ব অভিজ্ঞতায় এই ধরণের বিশৃঙ্খলা এবারই প্রথম নয়। এর আগে গত ৯ জানুয়ারি নরওয়ে থেকে আসা এক প্রবাসী যাত্রীর সঙ্গেও নিরাপত্তা কর্মীদের অনাকাঙ্ক্ষিত হাতাহাতি হয়েছিল। দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বারবার এমন ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রী ও স্বজন সামলানোর জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির অভাব রয়েছে। পাশাপাশি আনসার ও নিরাপত্তাকর্মীদের কাস্টমার সার্ভিস ও ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট বিষয়ক সঠিক প্রশিক্ষণ না থাকায় বারবার এমন বিমানবন্দরে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে থাকে।
দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি রেমিট্যান্স যোদ্ধা প্রবাসীরা যখন দেশে ফেরেন, তখন তাঁদের ও স্বজনদের এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের উচিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যাত্রীবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখা।











