আইইএলটিএস ছাড়াই বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার বিকল্প সুযোগ

বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে আইইএলটিএস (IELTS) স্কোর কি আপনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে? তবে আপনার জন্য রয়েছে আশার বাণী। বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে কেবল ইংরেজি ভাষার এই একটি পরীক্ষা না দিয়েও ইউরোপ, এশিয়া এবং আমেরিকার বেশ কিছু উন্নত দেশে উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। মেধা ও সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে এখন আইইএলটিএস ছাড়াই বিশ্বমানের ডিগ্রি অর্জন করা সম্ভব।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মনে একটি বদ্ধমূল ধারণা ছিল যে, আইইএলটিএস বা টোফেল ছাড়া বিদেশের ভিসা পাওয়া অসম্ভব। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বিশ্বের অনেক নামী বিশ্ববিদ্যালয় এখন ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে ‘মিডিয়াম অফ ইনস্ট্রাকশন’ (MOI) সার্টিফিকেট গ্রহণ করছে। অর্থাৎ, আপনি যদি আপনার সর্বশেষ ডিগ্রিটি (এসএসসি/এইচএসসি বা স্নাতক) ইংরেজি মাধ্যমে সম্পন্ন করে থাকেন, তবে সেই প্রতিষ্ঠানের দেওয়া সনদ ব্যবহার করেই আপনি অনেক দেশে ভর্তির আবেদন করতে পারবেন।
ইউরোপের অন্যতম সমৃদ্ধ দেশ জার্মানি এবং ফ্রান্সের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন আইইএলটিএস ছাড়াই স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়ার সুযোগ মিলছে। বিশেষ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীর একাডেমিক রেজাল্ট এবং মৌখিক সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে ভর্তির সুযোগ দিচ্ছে। এছাড়া হাঙ্গেরি এবং পোল্যান্ডের মতো দেশগুলোতেও এমওআই (MOI) গ্রহণ করার প্রবণতা বাড়ছে, যেখানে জীবনযাত্রার ব্যয়ও তুলনামূলক অনেক কম।
এশিয়াজুড়ে শিক্ষার নতুন হাব হিসেবে পরিচিতি পাওয়া মালয়েশিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়াতেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। মালয়েশিয়ার অনেক বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব ইংরেজি ভাষা কোর্স (ESL) অফার করে, যা সম্পন্ন করার শর্তে আইইএলটিএস ছাড়াই মূল কোর্সে ভর্তি নেওয়া হয়। অন্যদিকে, জাপানেও অনেক ক্ষেত্রে জাপানিজ ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্স সম্পন্ন করার শর্তে ইংরেজি সনদের বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হয়েছে।
তবে ইংরেজি ভাষাভাষী দেশ হিসেবে পরিচিত যুক্তরাজ্য (ইউকে) এবং যুক্তরাষ্ট্রেও কিছু ব্যতিক্রমী সুযোগ রয়েছে। যুক্তরাজ্যের অনেক বিশ্ববিদ্যালয় এখন দ্বাদশ শ্রেণিতে ইংরেজির নম্বর (৭০ শতাংশের উপরে হলে) বিবেচনা করে আইইএলটিএস মওকুফ করে থাকে। এছাড়াও ডুয়েলিঙ্গো ইংলিশ টেস্ট (DET) এর মতো সহজ বিকল্প এখন অনেক দেশে জনপ্রিয়তা পেয়েছে, যা আইইএলটিএস-এর চেয়ে অনেক কম সময়ে ও খরচে দেওয়া সম্ভব।
তবে আইইএলটিএস ছাড়া আবেদন করার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি দিলেও ভিসা অফিস আপনার ভাষা দক্ষতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে। তাই ভিসার ইন্টারভিউতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ইংরেজিতে কথা বলার দক্ষতা থাকা জরুরি। এছাড়া স্কলারশিপ বা আর্থিক অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রে আইইএলটিএস থাকা একটি বাড়তি সুবিধা হিসেবে কাজ করে।











