ইংরেজিভাষী সেনজেন দেশ মাল্টায় সহজে উচ্চশিক্ষার সুযোগ

সহজে ইউরোপের প্রবেশদ্বার উন্মুক্ত করতে ‘মাল্টা স্টুডেন্ট ভিসা’ বর্তমানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছে। নতুন কোনো ভাষা শেখার জটিলতা ছাড়াই কেবল ইংরেজিতে কথা বলার দক্ষতা নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত এই সুন্দর দ্বীপরাষ্ট্রে পড়াশোনার সুযোগ পাওয়া যায়। উচ্চমানের শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি সেনজেন অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় মাল্টায় ভর্তি হলে পরবর্তীতে ইউরোপজুড়ে স্থায়ী ক্যারিয়ার গড়ার এক সম্ভাবনা তৈরি হয়।
ভূমধ্যসাগরের কোলে অবস্থিত ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র মাল্টা তার চমৎকার আবহাওয়া ও আধুনিক জীবনযাত্রার জন্য পরিচিত। সুদীর্ঘ সময় ব্রিটিশ উপনিবেশ থাকার কারণে ইংরেজি দেশটির অন্যতম সরকারি ভাষা। ফলে অধিকাংশ ইউরোপীয় দেশে স্থানীয় ভাষা শেখার যে বড় ধরনের সামাজিক ও একাডেমিক প্রতিবন্ধকতা থাকে, মাল্টায় গিয়ে শিক্ষার্থীদের সেই সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় না।
উচ্চশিক্ষার দিক থেকে দেশটির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক মান ধরে রেখেছে। ঐতিহ্যবাহী ইউনিভার্সিটি অব মাল্টাসহ বেশ কিছু স্বনামধন্য ইউরোপীয় ইনস্টিটিউটে বিজনেস, ইনফরমেশন টেকনোলজি, সাইবার সিকিউরিটি, ট্যুরিজম ও হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টের ওপর আন্তর্জাতিক মানের ব্যাচেলর ও মাস্টার্স কোর্স পরিচালিত হয়। ইউরোপের অন্যান্য রাষ্ট্রের তুলনায় সাশ্রয়ী টিউশন ফি ও স্বল্প জীবনযাত্রার খরচ শিক্ষার্থী আকর্ষণে বড় ভূমিকা রাখছে।
ইউরোপের অন্যান্য সেনজেন দেশের তুলনায় মাল্টায় ভিসা প্রাপ্তির প্রক্রিয়া বেশ সাজানো এবং স্পষ্ট। আবেদনকারীর ন্যূনতম ১২ বছর মেয়াদী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন থাকতে হবে। মাল্টা স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনের জন্য ভালো মানের একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে IELTS বা সমমানের প্রফিসিয়েন্সি টেস্ট জমা দেওয়া ভালো। তবে দেশটির বেশ কিছু অনুমোদিত কলেজে মিডিয়াম অব ইন্সট্রাকশন (MOI) সার্টিফিকেট দিয়েও ভর্তির অফার লেটার পাওয়া যায়।
ভিসা ফাইল জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীর ব্যাংকে পর্যাপ্ত অর্থ ও আয়ের সঠিক উৎস প্রদর্শন করা অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষার্থীকে অবশ্যই তার প্রথম বছরের পূর্ণ টিউশন ফি, থাকার খরচ এবং স্বাস্থ্য বীমা কভার করার মতো আর্থিক সক্ষমতার সঠিক দলিলাদি দেখাতে হয়। মাল্টিপল এন্ট্রি সেনজেন ভিসা পাওয়ার কারণে একজন শিক্ষার্থী শিক্ষা জীবনের শুরু থেকেই ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণের সুযোগ পেয়ে থাকেন।
শিক্ষার্থীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার ক্ষেত্রে মাল্টা সরকার বেশ ইতিবাচক নীতিমালা অনুসরণ করে থাকে। দেশটিতে পৌঁছানোর প্রথম ৯০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর প্রার্থীরা আইনিভাবে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা পার্ট-টাইম কাজ করার সুযোগ পান। ইউরোপের বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র হওয়ায় এখানে হোটেল, রেস্তোরাঁ, আইটি এবং রিটেইল সেক্টরে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রচুর খণ্ডকালীন কর্মসংস্থান উন্মুক্ত থাকে। এর মাধ্যমে পড়াশোনার পাশাপাশি দৈনন্দিন খরচ নিজে বহন করা সম্ভব হয়।
পড়াশোনা সফলভাবে শেষ করার পর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো ওয়ার্ক পারমিটে রূপান্তরের প্রক্রিয়া। গ্র্যাজুয়েশনের পর স্থানীয় কোনো কোম্পানিতে স্থায়ী কাজের সুযোগ পেলে শিক্ষার্থী ভিসা পরিবর্তন করে সরাসরি ‘সিঙ্গেল পারমিট’ (Work Permit)-এ আবেদন করা যায়। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে মাল্টায় দীর্ঘমেয়াদে বসবাস ও স্থায়ী নাগরিকত্বের ভিত্তি তৈরি হয়।
মাল্টায় অবস্থানকালে সেনজেন চুক্তিভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অবাধ চলাচলের স্বাধীনতা থাকায় প্রার্থীরা সহজেই ইউরোপের অন্যান্য দেশে ইন্টার্নশিপ বা নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারেন। জার্মানি, ফ্রান্স, কিংবা নেদারল্যান্ডসের মতো বড় অর্থনৈতিক শক্তির দেশে পেশাদার কাজের সুযোগ মিললে মাল্টার আন্তর্জাতিক ডিগ্রির বদৌলতে খুব সহজেই সেইসব দেশে শিফট হওয়া সম্ভব হয়।
একটি নিরাপদ, উন্নত এবং সম্পূর্ণ ইংরেজিভাষী পরিবেশে ইউরোপীয় ডিগ্রি অর্জন করে সমগ্র ইউরোপে নিজের ক্যারিয়ার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকর একটি মাধ্যম। সঠিক নিয়ম মেনে তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করে আবেদন জমা দিলে তুলনামূলক কম সময়েই ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সম্পন্ন হয়ে যায়।











