নভেম্বর ৯, ২০২৬
#স্টুডেন্ট ভিসা

কেন বিশ্বসেরা তালিকায় ভ্যালেন্সিয়া পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয়?

ভূমধ্যসাগরের নীলাভ জলরাশি আর কমলালেবুর ঘ্রাণে ঘেরা শহর ভ্যালেন্সিয়া এখন কেবল পর্যটন নয়, বরং বৈশ্বিক প্রযুক্তির এক নতুন রাজধানী। আর এই রূপান্তরের নেপথ্য কারিগর হলো ‘ভ্যালেন্সিয়া পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয়’ (Universitat Politècnica de València – UPV)।

১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যাপীঠটি মাত্র কয়েক দশকে প্রকৌশল, বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তিতে স্পেনের শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

ভ্যালেন্সিয়া পলিটেকনিকের বিশেষত্ব হলো এর পাঠদান পদ্ধতি। এখানে লাইব্রেরির বইয়ের চেয়ে ল্যাবরেটরির পরীক্ষার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রধান ক্যাম্পাস ‘ভেরা’ (Vera) একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ শহরের মতো, যেখানে আধুনিক স্থাপত্যের সাথে মিশে আছে প্রচুর সবুজায়ন। এই ক্যাম্পাসে পা রাখলে বোঝা যায়, কেন একে ইউরোপের অন্যতম সেরা ‘ক্যাম্পাস লাইফ’ হিসেবে গণ্য করা হয়।

ইউপিভি-র মূল দর্শণ হলো ‘হ্যান্ডস-অন এক্সপেরিয়েন্স’। এখানকার শিক্ষার্থীরা কেবল সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বা কম্পিউটার সায়েন্স পড়ে না, বরং তারা ড্রোন তৈরি করে, সুপারফাস্ট হাইপারলুপ প্রোটোটাইপ নিয়ে কাজ করে এবং রোবোটিক্সের জটিল সব সমস্যার সমাধান খোঁজে। বিশ্বের নামী কোম্পানিগুলোর সাথে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সরাসরি সংযোগ শিক্ষার্থীদের গ্র্যাজুয়েশনের আগেই কর্মবাজারের জন্য শতভাগ প্রস্তুত করে তোলে।

র‍্যাঙ্কিংয়ের বিচারে ইউপিভি আজ স্পেনের শীর্ষস্থানীয় পলিটেকনিকগুলোর মধ্যে অন্যতম। বিশেষ করে সাংহাই র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী, এটি নিয়মিতভাবে বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তালিকায় নিজের অবস্থান সুসংহত রেখেছে। কৃষিবিজ্ঞান, টেলিযোগাযোগ এবং শিল্প প্রকৌশলে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগুলো আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত।

বিশ্ববিদ্যালয়টির একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হলো এর ‘পলিটেকনিক সিটি অফ ইনোভেশন’ (CPI)। এটি মূলত একটি সায়েন্স পার্ক যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও বেসরকারি কোম্পানিগুলো কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে। এখান থেকেই বেরিয়ে আসছে আগামীর জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি কিংবা জীবনদায়ী চিকিৎসা সরঞ্জামের নকশা। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইরাস্মাস প্লাস (Erasmus+) এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের আওতায় সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী গ্রহণ ও প্রেরণের ক্ষেত্রেও ইউপিভি ইউরোপের শীর্ষে।

একনজরে ভ্যালেন্সিয়া পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয় (UPV):

  • প্রতিষ্ঠাকাল: ১৯৬৮ সাল।

  • ক্যাম্পাস: তিনটি প্রধান ক্যাম্পাস (ভ্যালেন্সিয়া, আলকোয় এবং গান্দিয়া)।

  • র‍্যাঙ্কিং: স্পেনের ১ নম্বর প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (একাডেমিক র‍্যাঙ্কিং অফ ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটিজ অনুযায়ী)।

  • শিক্ষার্থী ও ফ্যাকাল্টি: প্রায় ২৮,০০০ শিক্ষার্থী এবং ২,৫০০-এর বেশি অভিজ্ঞ শিক্ষক।

  • গবেষণা ও উদ্ভাবন: পলিটেকনিক সিটি অফ ইনোভেশনে ২৫০টির বেশি পেটেন্ট এবং অসংখ্য আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকল্প।

  • সাংস্কৃতিক পরিবেশ: বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আর্ট গ্যালারি, স্পোর্টস কমপ্লেক্স এবং সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।

বাংলাদেশের উদীয়মান মেধাবীদের জন্য ভ্যালেন্সিয়া হতে পারে একটি স্বপ্নের গন্তব্য। ইউপিভি-তে বর্তমানে ডাটা সায়েন্স, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং সাস্টেইনেবল আর্কিটেকচারের মতো বিষয়ে পড়ার সুযোগ অনেক বেশি। স্পেনের অন্যান্য শহরের তুলনায় ভ্যালেন্সিয়ায় জীবনযাত্রার খরচ বেশ সাশ্রয়ী, যা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় প্লাস পয়েন্ট।

স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অনেক কোর্স ইংরেজিতে পরিচালিত হওয়ায় ভাষার বাধা এখন আগের চেয়ে অনেক কম। এছাড়া এখানকার উজ্জ্বল রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া এবং সমুদ্রের সান্নিধ্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বিদেশের মাটিতেও দেশের আমেজ দেয়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *