স্টুডেন্ট ভিসায় কড়াকড়ি: ২০২৬ সালে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার চ্যালেঞ্জ

উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশগামী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ২০২৬ সালটি বেশ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে। উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো জনপ্রিয় দেশগুলো তাদের অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের সংস্কার আনায় স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়া এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক। বিশেষ করে ভুয়া নথিপত্র রোধে দূতাবাসগুলো এখন কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার নতুন ‘এভিডেন্স লেভেল’ ও কড়াকড়ি ২০২৬ সালের ৯ জানুয়ারি অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তর এক আদেশে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশকে স্টুডেন্ট ভিসা প্রসেসিংয়ের ক্ষেত্রে ‘লেভেল ২’ থেকে ‘লেভেল ৩’-এ উন্নীত করেছে। এর অর্থ হলো, এখন থেকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসার জন্য তিন মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট, অর্থের সুনির্দিষ্ট উৎস এবং শতভাগ সঠিক একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট জমা দিতে হবে। ইমিগ্রেশন বিভাগ এখন ইন্টারপোলের মাধ্যমে এবং সরাসরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই (Spot Check) করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটি বন্ড ও নতুন নিয়ম ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে মার্কিন দূতাবাস বাংলাদেশি নির্দিষ্ট কিছু ভিসা আবেদনকারীর জন্য সর্বোচ্চ ১৫,০০০ ডলার পর্যন্ত সিকিউরিটি বন্ড জমা দেওয়ার নিয়ম কার্যকর করতে পারে। এছাড়া শিক্ষার্থী (F-1) ও গবেষক (J-1) ভিসার আবেদনকারীদের তাদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলো ‘পাবলিক’ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে ভিজিটিং বা স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া সহজ হয়।
ইউরোপ ও কানাডার বর্তমান পরিস্থিতি জার্মানি এবং রোমানিয়া ২০২৬ সালেও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে টিকে আছে। জার্মানির ‘কনস্যুলার সার্ভিস পোর্টাল’ (CSP) বর্তমানে মাস্টার্স ও ব্যাচেলর শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা অ্যাপয়েন্টমেন্ট সিস্টেম চালু করেছে। অন্যদিকে, কানাডা তাদের ‘ন্যাশনাল প্ল্যানিং লেভেল’ (NPL) এর মাধ্যমে প্রকৃত মেধাবী শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞারা বলছেন, ২০২৬ সালে ভিসা পেতে হলে আইইএলটিএস (IELTS) স্কোরের পাশাপাশি স্বচ্ছ আর্থিক নথি থাকা বাধ্যতামূলক।











