নভেম্বর ৯, ২০২৬
#শীর্ষ-২

ব্রেক্সিট বনাম কানাডা: কেন আটলান্টিক পেরিয়ে ইইউর কাছে আসছে অটোয়া?

ব্রেক্সিট বনাম কানাডা বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন বৈশ্বিক কূটনীতির নতুন সমীকরণ। ভৌগোলিক দূরত্ব এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও যেখানে যুক্তরাজ্য ব্রাসেলস থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছে, সেখানে আটলান্টিকের ওপার থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে কানাডা। মার্কিন শুল্কনীতি এবং আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মুখে নিজেদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিতেই ব্রাসেলস ও অটোয়ার এই অভাবনীয় নৈকট্য।
২০১৬ সালের ঐতিহাসিক ব্রেক্সিট গণভোটের পর যুক্তরাজ্য যখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের একক বাজার ও আইনি কাঠামো থেকে বেরিয়ে যায়, তখন অনেকেই মনে করেছিলেন ইউরোপীয় জোটের বৈশ্বিক আকর্ষণ হয়তো কমে আসছে। তবে এক দশক পর বিশ্ব রাজনীতি নতুন মোড় নিয়েছে। বর্তমানে ব্রেক্সিট বনাম কানাডা আলোচনা বিশ্ব কূটনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে, যেখানে ইউরোপ মহাদেশের বাইরের দেশ হওয়া সত্ত্বেও কানাডা ইইউর সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহযোগীতে পরিণত হতে যাচ্ছে।
যুক্তরাজ্য বের হওয়ার মাধ্যমে ইউরোপ ইউরোপীয়দের জন্য; এই নীতির চর্চা করলেও, ব্রাসেলস এখন বৈশ্বিক পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে বাধ্য হচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন বাণিজ্যনীতির আগ্রাসী অবস্থান এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে অস্থিরতা ইইউ ও কানাডা উভয়পক্ষকেই এক ছাতার নিচে আসার তাগিদ দিয়েছে।
কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশই যায় যুক্তরাষ্ট্রে। এই অতি-নির্ভরশীলতা অটোয়ার অর্থনীতিকে ঝুঁকিতে ফেলায় কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ইউরোপের বিশাল একক বাজারের দিকে নজর দিয়েছেন। অন্যদিকে, ব্যাটারি উৎপাদন ও উচ্চপ্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় কৌশলগত খনিজ সম্পদের জন্য কানাডার ওপর ভরসা করতে চায় ইউরোপীয় কমিশন।
এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা এবং উত্তর মেরু বা আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তায় দুই দেশ একযোগে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে ব্রেক্সিটের পর ইউরোপ যে শূন্যতা অনুভব করছিল, অটোয়াকে পাশে টেনে সেই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করছে ব্রাসেলস।
লন্ডন যখন ইইউ ছেড়ে নিজেদের স্বায়ত্তশাসনের কথা বলেছিল, অটোয়া তখন ইইউর কাছাকাছি এসে নিজেদের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে চাইছে। মার্কিন শুল্কের ধাক্কা সামলানো এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষা করতে মধ্যম শক্তির দেশগুলোর এমন জোটবদ্ধ হওয়া রাজনৈতিকভাবে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই অভূতপূর্ব নৈকট্য বিশ্ব বাণিজ্যে শক্তির নতুন কেন্দ্রবিন্দু তৈরি করবে। যুক্তরাজ্যের প্রস্থান ইইউকে যতটা ধাক্কা দিয়েছিল, কানাডার আগমন ব্রাসেলসকে বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে ততটাই শক্তিশালী অবস্থান এনে দিচ্ছে।
ব্রেক্সিট বনাম কানাডা: কেন আটলান্টিক পেরিয়ে ইইউর কাছে আসছে অটোয়া?

‘ইইউ সহযোগী সদস্যপদ’ বাস্তবায়নে কোন পথে হাঁটবে

ব্রেক্সিট বনাম কানাডা: কেন আটলান্টিক পেরিয়ে ইইউর কাছে আসছে অটোয়া?

ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও অর্থনৈতিক চাপেই কী ইউরোপের

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *