ইটিআইএএস অনলাইন ট্রাভেল পারমিট: যে ভুলে বাতিল হতে পারে ইউরোপ ভ্রমণ

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সেনজেনভুক্ত দেশগুলোতে ভ্রমণের ক্ষেত্রে চালু হওয়া ইটিআইএএস অনলাইন ট্রাভেল পারমিট ইউরোপে বসবাসকারী প্রবাসী ও পর্যটকদের সীমান্ত অতিক্রমের প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। নতুন এই ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে ভিসামুক্ত বা নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির যাত্রীরা এক সেনজেন দেশ থেকে অন্য দেশে ডিজিটাল অনুমোদন নিয়ে অত্যন্ত নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারছেন।
সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার ও প্রবেশ প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় করার লক্ষ্যে ইউরোপীয় কমিশন এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। তবে ডিজিটাল এই ট্রাভেল অথরাইজেশন ছাড়া ভ্রমণের প্রস্তুতি নিলে বিমানবন্দরে বোর্ডিং রিজেক্টসহ নানা জটিলতায় পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
ইউরোপের ডিজিটাল বর্ডার ম্যানেজমেন্টের অংশ হিসেবে চালু হওয়া ইটিআইএএস অনলাইন ট্রাভেল পারমিট মূলত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার মান আধুনিকায়ন করেছে। এই পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো সেনজেন অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ সীমান্তগুলোতে এখন থেকে অতিরিক্ত সময় নষ্ট না করেই যাত্রীরা যাতায়াত করতে পারবেন। ডিজিটাল ডেটাবেজের সাথে সংযোগ থাকায় অনুমোদিত যাত্রীর তথ্য সীমান্তরক্ষীদের কাছে আগেই পৌঁছে যায়।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশি প্রবাসী যাদের পাসপোর্ট সুবিধা বা ট্রাভেল সুবিধা রয়েছে, তাদের জন্য এই পারমিট ভ্রমণের পথকে ঝামেলামুক্ত করেছে। আবেদন প্রক্রিয়াটি অনলাইনেই সম্পন্ন হয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কয়েক মিনিটের মধ্যে স্বয়ংক্রিয় অনুমোদন মেলে। ফলে প্রবাসীরা কোনো দীর্ঘস্থায়ী প্রশাসনিক জটিলতা ছাড়াই এক দেশ থেকে অন্য দেশে যেতে পারছেন।
ইটিআইএএস ব্যবস্থা সার্বিক ভ্রমণ সহজ করলেও পর্যাপ্ত তথ্যের অভাবে অনেক প্রবাসী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনেকে নিয়মটি না জেনে শেষ মুহূর্তে বিমানবন্দরে পৌঁছে যাচ্ছেন, যার ফলে এয়ারলাইন্সগুলো বোর্ডিং পাস ইস্যু করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।
পারমিট ছাড়া ভ্রমণচেষ্টা করলে কেবল সময় ও ফ্লাইটের টিকিটের টাকাই নষ্ট হয় না, বরং ইউরোপিয়ান বর্ডার ডেটাবেজে নেতিবাচক রেকর্ড তৈরি হতে পারে। যেসব ক্ষেত্রে ম্যানুয়াল রিভিউ বা বাড়তি কাগজপত্রের প্রয়োজন হয়, সেখানে অনুমোদন পেতে কয়েক দিন পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। তাই ভ্রমণের পরিকল্পনা করার শুরুতেই এই ডিজিটাল অনুমোদনটি সংগ্রহ করা অত্যন্ত জরুরি।
ইউরোপে কর্মরত প্রবাসী ও ভ্রমণকারীদের ক্ষেত্রে যেকোনো আন্তঃদেশীয় যাত্রার অন্তত কয়েক দিন আগে অফিসিয়াল পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন সম্পন্ন করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। পাসপোর্টের মেয়াদ, ব্যক্তিগত তথ্য এবং ভ্রমণের বিবরণ সঠিকভাবে পূরণ না করলে আবেদন বাতিলের সম্ভাবনা থাকে।
ইউরোপীয় সীমান্ত কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ডিজিটাল সিস্টেমে অনুমোদিত পারমিটের স্ট্যাটাস সবুজ না দেখালে কোনো যাত্রীকে বিমানে উঠতে দেওয়া হবে না। সময়মতো প্রস্তুতি এবং নতুন এই ডিজিটাল নিয়মের সাথে মানিয়ে চললে অপ্রয়োজনীয় আর্থিক ক্ষতি ও বিমানবন্দরে বোর্ডিং রিজেকশন সহজেই এড়ানো সম্ভব।











