নভেম্বর ৯, ২০২৬
#Uncategorized #তুরস্ক #দেশভিত্তিক নিউজ

ইউরেশিয়ার সংযোগস্থলে বাংলাদেশ: তুরস্কভিত্তিক প্রবাসীদের নতুন সম্ভাবনা

ভৌগোলিক অবস্থান এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির কারণে তুরস্ক এখন বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য একটি কৌশলগত গন্তব্য হয়ে উঠেছে। ২০২৬ সালের শুরুতে তুরস্ক সরকার বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার পর দেশটিতে বাংলাদেশি প্রবাসীদের আনাগোনা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। এক সময় তুরস্ককে কেবল ইউরোপে প্রবেশের পথ হিসেবে দেখা হলেও, বর্তমানে অনেক বাংলাদেশি তুরস্ককেই তাদের কর্মস্থল ও বসবাসের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।

দক্ষ কর্মী নিয়োগ ও নতুন দিগন্ত ২০২৬ সালের বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তুরস্কের বিভিন্ন শিল্প খাতে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীর চাহিদা বেড়েছে। বিশেষ করে টেক্সটাইল, জাহাজ নির্মাণ এবং পর্যটন খাতে বাংলাদেশিরা সুনামের সাথে কাজ করছেন। সম্প্রতি তুরস্কের বেশ কিছু বড় কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে কয়েক হাজার দক্ষ টেকনিশিয়ান ও ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ দিয়েছে। ইস্তাম্বুল ও আঙ্কারার মতো শহরগুলোতে এখন বাংলাদেশি আইটি প্রফেশনালদের পদচারণাও লক্ষণীয়।

সাফল্যের গল্প ও শিক্ষা খাত তুরস্ক বর্তমানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য অন্যতম প্রধান স্কলারশিপের দেশ। হাজার হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী তুর্কি সরকারের ‘বুর্সলারি’ স্কলারশিপ নিয়ে সেখানে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছেন। তাদের অনেকে পড়াশোনা শেষ করে স্থানীয় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে যোগ দিচ্ছেন অথবা দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি ব্যবসায় যুক্ত হয়ে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছেন। বাংলাদেশি মশলা, চা এবং তৈরি পোশাকের চাহিদা তুরস্কে বৃদ্ধিতে এই প্রবাসীরাই মূল ভূমিকা রাখছেন।

চ্যালেঞ্জ ও আইনি জটিলতা তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। তুরস্ককে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে গ্রিস বা বুলগেরিয়া হয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টাকালে অনেক বাংলাদেশি বিপদে পড়ছেন। দালালের খপ্পরে পড়ে পাহাড় বা বনজঙ্গলে মানবেতর জীবন যাপন এবং ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে আটকের ঘটনা এখনো নিয়মিত ঘটছে। এছাড়া তুর্কি ভাষার ওপর দখল না থাকলে স্থানীয়দের সাথে যোগাযোগ এবং ভালো চাকরি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তবে যারা বৈধ পথে আসছেন এবং ভাষা রপ্ত করছেন, তাদের জন্য তুরস্ক এখন এক অফুরন্ত সম্ভাবনার দেশ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *