কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মানোন্নয়ন জরুরি

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে ব্যবহারিক ও প্রযুক্তিগত দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আধুনিক পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ এবং ল্যাবরেটরিগুলোর আধুনিকায়ন সবচেয়ে বেশি জরুরি।
কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মানোন্নয়নে যে সকল পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন:
১. অবকাঠামো ও ল্যাবরেটরি সংস্কারঃ
- ল্যাব আধুনিকায়ন: পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল স্কুলগুলোর পুরোনো যন্ত্রপাতি পরিবর্তন করে আধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ ল্যাব স্থাপন করা।
- দক্ষ সহকারী নিয়োগ: ল্যাবরেটরি ও ওয়ার্কশপগুলো সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য দক্ষ ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট নিয়োগ দেওয়া।
- বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন: বেসরকারি কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলোর ল্যাব ও অবকাঠামোগত ঘাটতি দূর করতে সরকারি তদারকি ও সহায়তা বৃদ্ধি করা।
২. শিক্ষক সংকট ও দক্ষতার উন্নয়নঃ
- শিক্ষক সংকট দূরীকরণ: শূন্য পদগুলোতে দ্রুত স্থায়ী ও যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া।
- ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ: শিক্ষকদের শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞানে সীমাবদ্ধ না রেখে আধুনিক প্রযুক্তির ওপর দেশী-বিদেশী উচ্চতর ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া।
- ইন্ডাস্ট্রি বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্তি: বিভিন্ন খাতের সফল প্রকৌশলী বা কারিগরি বিশেষজ্ঞদের অতিথি শিক্ষক হিসেবে ক্লাসে আমন্ত্রণ জানানো।
৩. পাঠ্যক্রম ও মূল্যায়ন পদ্ধতির আধুনিকায়নঃ
- বাজারমুখী সিলেবাস: বর্তমান যুগের চাহিদার সাথে সংগতি রেখে পিএলসি, অটোক্যাড, ডাটা অ্যানালিটিক্স, ও আইটি-ভিত্তিক বিষয় পাঠ্যক্রমে যুক্ত করা।
- ব্যবহারিক পরীক্ষায় কড়াকড়ি: খাতায় কলমে পরীক্ষা নেওয়ার চেয়ে ল্যাবে সরাসরি কাজের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর দক্ষতা মূল্যায়ন করা।
- ইংরেজি ও যোগাযোগ দক্ষতা: আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের কথা মাথায় রেখে পাঠ্যক্রমে ইংরেজি ও প্রয়োজনীয় সফট স্কিল যুক্ত করা।
৪. শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সাথে সংযোগ (Industry Linkage)
- বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ: প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বাস্তবধর্মী কাজের (Apprenticeship/Internship) সুযোগ নিশ্চিত করা।
- যৌথ পার্টনারশিপ: দেশের বড় বড় শিল্পকারখানার সাথে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর চুক্তি করা, যাতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষেই সরাসরি কর্মসংস্থানে যুক্ত হতে পারে।
৫. সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতিগত পরিবর্তনঃ
- ইতিবাচক প্রচার: কারিগরি শিক্ষাকে ‘দ্বিতীয় স্তরের শিক্ষা’ ভাবার সামাজিক মানসিকতা দূর করতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো।
- আর্থিক প্রণোদনা ও উপবৃত্তি: নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে বিশেষ উপবৃত্তি ও পড়াশোনা শেষে ঋণ বা কর্মসংস্থানের সুবিধা দেওয়া।
- অনানুষ্ঠানিক দক্ষতার স্বীকৃতি: যারা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই বিভিন্ন কাজে দক্ষ হয়ে উঠেছেন, তাদের মূল্যায়নের জন্য আরপিএল (RPL – Recognition of Prior Learning) ব্যবস্থার সহজীকরণ করা।










