চেক রিপাবলিকে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পড়ার সুবর্ণ সুযোগ পাচ্ছেন প্রবাসীরা

ইউরোপের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত চেক রিপাবলিকে উচ্চশিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এক অভূতপূর্ব সম্ভাবনার দুয়ার খুলে গেছে। দেশের যেকোনো সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানীয় চেক ভাষায় ডিগ্রি অর্জন করতে পারলে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পড়াশোনা করার সুযোগ দিচ্ছে দেশটির সরকার। এছাড়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে পছন্দের শীর্ষে থাকা ইংরেজি মাধ্যম কোর্সগুলোতেও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের তুলনায় পড়াশোনার খরচ অনেক কম।
ইউরোপের বুকে শিক্ষা ও সভ্যতার অন্যতম প্রাচীন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত চেক রিপাবলিক। ঐতিহাসিক প্রাগ শহর এবং চার্লস ইউনিভার্সিটির মতো শতবর্ষী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিশ্বজুড়ে সুনাম কুড়িয়েছে। বর্তমান উচ্চশিক্ষা নীতি অনুযায়ী, যেকোনো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী চেক ভাষায় পড়তে সম্মত থাকলে তাকে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক পয়সাও টিউশন ফি দিতে হয় না।
এই সুবিধা পেতে শিক্ষার্থীদের কেবল মূল পাঠ্যক্রম শুরুর আগে এক বছরের বিশেষ ভাষা প্রস্তুতিমূলক কোর্স সম্পন্ন করতে হয়। চেক ভাষায় ভাষা দক্ষতা নিশ্চিত করার পর দেশটির নিজস্ব নাগরিকদের মতোই সমান সুযোগ-সুবিধা উপভোগ করা যায়। এতে স্নাতক, স্নাতকোত্তর কিংবা পিএইচডি পর্যায়ে টিউশন ফি বাবদ এক বিরাট আর্থিক সাশ্রয় ঘটে।
চেক ভাষা শেখা যাদের কাছে কিছুটা চ্যালেঞ্জিং মনে হয়, তাদের জন্যও বিশেষ সুসংবাদ রয়েছে। ইংরেজি মাধ্যমে চেক রিপাবলিকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য রয়েছে হাজারেরও বেশি স্বীকৃত ব্যাচেলরস ও মাস্টার্স প্রোগ্রাম। অন্যান্য ইউরোপীয় বা পশ্চিমা দেশ যেমন যুক্তরাজ্য, কানাডা বা জার্মানির ইংলিশ কোর্সের তুলনায় এখানকার টিউশন ফি অত্যন্ত নাগালের মধ্যে।
সাধারণত ইংরেজি মাধ্যমের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বার্ষিক টিউশন ফি দুই থেকে চার হাজার ইউরোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। আইটি, ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিসিন ও বিজনেস স্টাডিজের মতো চাহিদাসম্পন্ন বিষয়গুলোতে বিশ্বমানের শিক্ষা প্রদান করা হয়। শিক্ষা শেষে প্রদত্ত ডিগ্রি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হওয়ায় বৈশ্বিক চাকরির বাজারে শিক্ষার্থীরা অগ্রাধিকার লাভ করেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের শেনজেন অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত হলেও দেশটির জীবনযাত্রার ব্যয় পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোর চেয়ে বেশ কম। একজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর থাকা-খাওয়া ও যাতায়াত বাবদ মাসে প্রায় ৪০০ থেকে ৬০০ ইউরো খরচ হয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সুলভ মূল্যের ডরমিটরি বা হোস্টেল সুবিধা থাকার ফলে আবাসন খরচ অনেক কমে আসে।
এছাড়া শিক্ষার্থীরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইরাসমাস প্লাস (Erasmus+) প্রোগ্রামের অধীনে ইউরোপের অন্যান্য বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ে সাময়িক মেয়াদের জন্য এক্সচেঞ্জ স্টুডেন্ট হিসেবে পড়ার সুযোগ পান। এর মাধ্যমে আলাদা কোনো বাড়তি খরচ ছাড়াই অন্য একটি ইউরোপীয় দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও সংস্কৃতি জানার পথ উন্মুক্ত হয়।











